সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়

সমুদ্র দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে দৌড়তে-দৌড়তে শোনে—ও দাদা, আপনার কী হারিয়েছে? এভাবে দৌড়চ্ছেন কেন? ব্রিজের ওপর কাউকে আজ অবধি দৌড়তে দেখিনি! 
পুলিসের কনস্টেবল ভদ্রলোক অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন।
—দেখুন তো কী বিপদ! মেঘলার আগামীকাল বিয়ে। অথচ বাড়িতে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান। হাসপাতালে ভর্তি আছে। বলছে, দু'বোতল রক্ত লাগবে। এখুনি। তাই দৌড়ে যাচ্ছি। ব্রিজটা টপকে বাঁহাতেই তো হাসপাতালটা। তাই না? মেয়েটাকে আমি ছোটোবেলা থেকেই তো ভালোবাসি। এ-সময় আমি না-থাকলে কে থাকবে?
পুলিস ভদ্রলোক ওকে অনেক করে বুঝিয়ে থামান। মোবাইল ফোন ঘেঁটে ওর বাড়ির নম্বরে ফোন করেন। এক বৃদ্ধা ফোন ধরে বলেন—আমার একমাত্র ছেলে। বৌমা হঠাৎ বাড়িতে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মাত্র দু'দিন হাসপাতালে থেকে মারা যায়। তারপর থেকেই ছেলেটার মাথায় যে কী হয়েছে! অথচ সেই বৌ সারাদিন অন্য একটি ছেলের সাথে ঘুরে বেড়াতো। জিজ্ঞেস করলে বলতো, আমার ছেলে নাকি অক্ষম! শুধু রাতে শুতে আসতো। আমি এই ছেলেকে কীভাবে সামলে রাখবো, জানি না! ওকে আপনার কাছেই রাখুন। আমি আমার ভাইকে নিয়ে আসছি।
পুলিস ভদ্রলোক কিছু না-ভেবেই প্রশ্ন করেন—আচ্ছা, ওনার স্ত্রীর নাম কী ছিল? মেঘলা?
বৃদ্ধা ভদ্রমহিলা অবাক হয়ে বলেন—হ্যাঁ। আপনি জানলেন কীভাবে?

Comments