অরুণাংশু জেমস বিশ্বাস

কোনোরকমে মুখ ধুয়ে, চুল আঁচড়ে চশমার কাচ মুছতে-মুছতে আদ্যিকালের দোতলা বাড়িটার নিচের দক্ষিণের পলেস্তারা-খসা বারান্দাটায় যখন অনীক এসে পৌঁছলো, ততক্ষণে অনুজা বাসি বারান্দাখানা নিজেই ঝাঁটিয়ে মাদুর পেতে ব্যাগ নিয়ে বসে পড়েছে। ব্যাগ থেকে হোমটাস্কের খাতাটা বের করে জমা দেওয়ার আগে খুব মন দিয়ে একবার চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিল সে, পাছে কোনো ভুল ধরা না-পড়ে। অনুজার সামনে পা গুটিয়ে বাবু হয়ে বসে পড়লো অনীক। তারপর একটু বোকার মতো হেসে আমতা-আমতা করে বললো, "আজ অ্যালার্মটা কেন যে বাজেনি, কী জানি!" 
অনুজা চোখ তুলেও তাকালো না সেদিকে। একমনে খাতাটায় চোখ বুলিয়ে চললো। তারপর খাতাটা অনীকের দিকে এগিয়ে দিল। খাতাটা নেওয়ার অছিলায় অনীক অনুজার আঙুলগুলো একবার ছুঁলো। সেই ছোঁয়াতে অনীক ভিতর-ভিতর যতটা পুলকিত হলো, তার বিন্দুমাত্র অভিব্যক্তি অনুজার চোখেমুখে প্রকাশ পেলো না। তারপর পড়ানোর ফাঁকে-ফাঁকে অনেকবার কাতর দৃৃৃৃষ্টিতে অনুজার দিকে তাকালো অনীক। কথার ইঙ্গিতে আর শরীরী ভাষায় অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করলো, সে কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে অনুজার প্রতি। কিন্তু অনুজার শান্ত-স্নিগ্ধ চোখদুটো একবারও সেদিকে দৃষ্টিপাত করলো না। অনীক আশ্চর্য হয়ে ভাবতে লাগলো, কী করে কুড়ি বছরের একটি মেয়ে এত নিরুত্তপ্ত থাকতে পারে!  আর অনুজা হ্যাঁ-হুঁ বা প্রয়োজনীয় কয়েকটা কথা ছাড়া প্রায় নিঃশব্দে পড়তে লাগলো। তারপর একসময় বাঁ-হাতটা চিৎ করে, হাতঘড়িটায় চোখ বুলিয়ে অনীককে ডাকলো—"স্যার..."। অনীক একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়ায় সে-ডাক শুনতে পেলো না। 
অগত্যা অনুজা আবার বললো, "স্যার, আটটা বেজে গেছে।" 
এবার অনীক খেয়াল করে বললো, "অ্যাঁ? ও হ্যাঁ...সময় হয়ে গেছে, না? তাহলে আজ এই পর্যন্তই থাক।"
                  
                         ★ ★ ★ ★ 

শৈশবে বাবাকে হারিয়েছে অনীক। দীর্ঘ পাঁচ বছর স্টমাক ক্যান্সারে ভুগে, চিকিৎসায় প্রায় নিঃস্ব হয়ে স্বর্গে পাড়ি দেন তিনি। পাঁচ বছরের ছেলের হাত ধরে যেদিন অনীকের মা শ্বশুরবাড়ির পাট চিরদিনের মতো চুকিয়ে বাপের বাড়ি এসে উঠেছিলেন, সেদিন অনীকের দাদু মা-মরা একমাত্র মেয়ের বৈধব্যে যতটা-না শোকাহত হয়েছিলেন, তার থেকে বেশি নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন বুড়ো বয়সে দেখাশোনার একজনকে পেয়ে। রেলের ঠিকেদারি করে সারাজীবন যা রোজগার করেছিলেন, জামাইয়ের চিকিৎসায় তার অনেকটাই খরচ হয়ে গিয়েছিল। বাকি যা বেঁচেছিল, সেই টাকা, কিছু জমিজায়গা আর ভিটেবাড়িটা মেয়ের নামে করে বৃদ্ধ কিছুদিনের মধ্যেই চোখ বুজেছিলেন। অনীককে মানুষ করতে, সে-সব বিষয়-আশয়ের অনেকটাই এখন আর নেই। ভিটেবাড়িটা আর ব্যাঙ্কে ফিক্স করে রাখা কিছু টাকাই এখন মা-ছেলের বেঁচে থাকার সম্বল। এর মধ্যে অনীক ইংরেজি নিয়ে এমএ পাশ করেছে। প্রচুর টিউশনি করে। চাকরির পরীক্ষাগুলোতেও বসছে।
    
একদিন সকালে অনীকের বাবার এক বন্ধু এসে হাজির হলেন। পেশায় উকিল। অনীকের মায়ের হাতের চিনিছাড়া চায়ে চুমুক দিতে-দিতে মোট তিনটি রাউন্ডে গল্প সারলেন। যথাক্রমে প্রথম রাউন্ডে কুশল জিজ্ঞাসা, দ্বিতীয় রাউন্ডে অতীতের স্মৃতিচারণ এবং তৃতীয় রাউন্ডে নিজের স্ত্রীর সেরিব্রাল অ্যাটাকের কারণে সর্বাঙ্গ পঙ্গু হয়ে তিন বছর ধরে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে থাকার করুণ কাহিনি। যখন তাঁর গল্পের তৃতীয় রাউন্ড ও কাপের চা শেষ হলো, তখন সামনের সানমাইকা চটা টি-টেবিলটার উপর খালি কাপ আর প্লেটটা রেখে, কাঠের সোফার থ্যাঁতলানো গদিটায় আয়েস করে বসে, অনীকের মায়ের উদ্দেশে বললেন, "বৌঠান, যে-জন্য আজ আসা...আমার এক দূরসম্পর্কের ভাইঝি আছে। ইতিহাসে অনার্স নিয়ে পড়ছে। সেকেন্ড ইয়ার। গ্র্যাজুয়েশনটা কমপ্লিট করে ডব্লিউবিসিএস-এ বসতে চায়। খুব চেষ্টা।  মাথাও আছে। শুনেছি অনীক খুব ভালো ইংরেজি পড়ায়। যদি ওকে ভালো করে ভিতটা তৈরি করে দিত, তাহলে খুব উপকৃত হতাম।" 
অনীকের মা খুব সপ্রতিভ হয়ে বলেছিলেন, "এমা! কেন পড়াবে না? আপনার ভাইঝি, সে তো আমারও মেয়ে! কী বলিস অনীক?" এই বলে তিনি অনীকের দিকে চাইলেন।
অনীক একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলেছিল, "আসলে প্রতিদিনই তো প্রায় স্কুলের ব্যাচগুলো থাকে...শুধু শনি-রবি সকাল ছ'টা থেকে আটটা পর্যন্ত যদি হয়, তাহলে হয়তো সময় দিতে পারবো।"
ভদ্রলোক কথা না-বাড়িয়ে বলেছিলেন, "বেশ, তাই দিও। আমি তোমাকে মাসে পাঁচশো টাকা করে দেবো।"
অনীকের মা আহ্লাদে আটখানা হয়ে হয়তো বলেই ফেলতেন—"না-না দাদা, এ কী বলছেন? আপনার কাছ থেকে কি টাকা নিতে পারি!" অনীক সে-রকম কিছু একটা আঁচ করেই মা কিছু বলার আগেই বলেছিল, "হ্যাঁ ঠিক আছে। তাই হবে।"
       
পরের মাসের প্রথম শনিবারের সকালে অনুজা প্রথম এসেছিল অনীকদের বাড়ি। সাথে দূরসম্পর্কের কাকুটি না-থাকায়, বাড়ি খুঁজে আসতে নির্ধারিত সময়ের থেকে মিনিট কুড়ি দেরি হয়ে গিয়েছিল তার। অনীক শিক্ষকসুলভ গাম্ভীর্য নিয়ে বলেছিল, "প্রথম দিন-ই লেট?" অনুজা নীরবে চোখ নামিয়ে মাথা নিচু করে দোষ মেনে নিয়েছিল। যুক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু সেদিন থেকেই অনুজার প্রতি কেমন যেন একটা টান অনুভব করতে শুরু করলো অনীক। অনুজার দুধে-আলতা গায়ের রঙ পরনের সাদামাটা মলিন সালোয়ারটারও যেন আভিজাত্য বাড়িয়ে দিয়েছিল। শান্ত-গভীর দুটো চোখে ঘন ঢেউ খেলানো পল্লবরাশি পৃথিবীর যে-কোনো সুন্দরীকে টেক্কা দেওয়ার মতো ক্ষমতা রাখে; তবু বিন্দুমাত্র আবেদন নেই সেই দৃষ্টিতে। লালচে-গোলাপি ঠোঁটদুটোয় দুষ্টুমি বা অভিমান কোনোটাই নেই। পাহাড়ি ঝর্নার মতো কোঁকড়ানো একঝাঁক কালো চুলের অবাধ্য স্রোতকে খুব শক্ত হাতে শাসন করে তেল দিয়ে বাঁধা। অহংকার, চপলতা বা নিজেকে জাহির করার ইচ্ছা কোনোটাই নেই তার স্বভাবে। এ যেন তার দ্বিতীয় জন্ম! সবই যেন তার আগে থেকেই দেখা, জানা।  সবই যেন সে আগে থেকেই বুঝতে পারে। তাই তাকে ফাঁকি দেওয়া যায় না, ছল করা যায় না। তবে পড়াশোনার প্রতি তার কৌতূহলের শেষ নেই। বিদ্যার প্রতি তার অশেষ আগ্রহ আর ভালোবাসা। এই স্বভাবটা অনুজার প্রতি অনীকের মুগ্ধ হওয়ার আরেকটা বড়ো কারণ ছিল। তারপর প্রায় ছয়মাস ধরে অনীকের অজান্তে এই মুগ্ধতাই আস্তে-আস্তে প্রেমে পরিণত হয়েছে। অনেক রাত জেগে, নিজের সঙ্গে অনেক যুদ্ধ করে অনীক সিদ্ধান্ত নেয়, অনুজাকে তার মনের কথাটা বলবে। তাই এক শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোন করে তার মনের কথা অনুজাকে বলবে বলে ঠিক করে। কারণ,  তখনই ফোনে উত্তরটা যদি অনুজা নাও দিতে পারে, একরাত ভেবে পরের দিন পড়তে এসে অবশ্যই বলতে পারবে। অনীক অ্যাড্রিনালিনের তীব্র প্রবাহকে কোনোরকমে সংযত করে, নিজের মোবাইল ফোনে অনুজার মোবাইল নম্বরটা ডায়েল করলো। তিনবার রিং হওয়ার পর, ওপার থেকে অনুজা বললো—"হ্যালো?"
"আমি অনীক।"
কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে অনুজা ফোনটা কেটে দিল। তারপর সুইচড অফ।

                     ★ ★ ★ ★

অনুজা বইখাতার ব্যাগটা কাঁধে ফেলে বারান্দার তিনধাপের সিঁড়িটা বেয়ে নেমে নিচু হয়ে হাঁটু মুড়ে হাতের আঙুলের সাহায্যে চটির স্ট্র্যাপে গোড়ালি গলাচ্ছিল। অনীক বললো, "কাল ফোনটা ধরে কেটে দিলে কেন?" 
অনুজা খুব শান্তভাবে উত্তর দিল, "ব্যস্ত ছিলাম।"
তারপর অনীকদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সামনের গলি-বরাবর সোজা বড়োরাস্তার দিকে হাঁটতে লাগলো। 
একটু পরে অনীক ওর পিছনে দ্রুতপায়ে এসে, পিছন থেকেই ডেকে বললো, "অনুজা, প্লিজ একটু দাঁড়াও!" তারপর হনহনিয়ে কাছে এসে বললো, "তুমি কি কিছুই বোঝো না? নাকি, বুঝতে চাও না?" 
এই প্রথমবার অনুজা চোখ তুলে তাকালো অনীকের দিকে, বললো—"দ্বিতীয়টা।"
"কেন?"
"কারণ, আপনার আর আমার পৃথিবীটা অনেক আলাদা।"
"কিন্তু আমার পৃথিবীটা যে এখন শুধু তোমায় নিয়ে অনুজা!"
"কিন্তু সেটা তো শর্ত ছিল না! শর্ত ছিল, মাসে পাঁচশো টাকার বিনিময়ে আমার ইংরেজির ভিতটা তৈরি করে দেওয়া।"
"জীবনের সবকিছুই কি শর্তে চলে অনুজা?"
"আমাকে যে চলতে হয় স্যার!" একটু থেমে অনুজা আবার বললো, "চলি স্যার। আমাকে অনেকটা পথ এখনও যেতে হবে।"

আর পিছন ফিরে তাকায়নি অনুজা। তবুও অনীক সেই আশাতেই গলির শেষপ্রান্ত পর্যন্ত অনুজাকে হেঁটে যেতে দেখতে থাকলো, যতক্ষণ-না সে বড়োরাস্তায় উঠে ডানদিকে মিলিয়ে গেল।

                      ★ ★ ★ ★

বড়োরাস্তায় উঠে খুব ধীরে-ধীরে অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটতে লাগলো অনুজা। হাঁটতে-হাঁটতে বাসস্টপে এসে দাঁড়ালো। শহর থেকে অনেক দূরে এক প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে সে। শরিকি অশান্তির জেরে বাবার দুটো পা-ই কাটা পড়েছে। তবুও সারাদিন বসে বিড়ি বাঁধেন। ছোটো-ছোটো চারটে বোন। মা মাঠে কাজ করেন, বাবাকেও সাহায্য করেন। ভারী অভাব তাদের সংসারে। তবুও তার স্বপ্ন, একদিন সে মস্ত বড়ো অফিসার হবে। সবই ভালো ছিল একদিন। গোলার ধান, ক্ষেতের সবজি, জমিজমা, টাকা—কিছুরই অভাব ছিল না। কিন্তু কাকারা অন্যায় করে সব দখল করলো। প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাবা পা-দুটো হারালো। বাবার চিকিৎসায় এবং দীর্ঘ ফৌজদারি আর দেওয়ানি মামলায় সর্বস্ব চলে গেল তাদের। তখন তাদের ফৌজদারি মামলা যে-উকিল লড়ছিলেন, তিনিই অনুজাকে এক অদ্ভুত প্রস্তাব দেন একদিন। বলেন, অনুজার বাবার মামলা লড়ার জন্য তিনি একপয়সাও নেবেন না। বরং অনুজার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ তিনিই দেবেন। এমনকি অনুজাকে তিনি একটা মোটা টাকা মাসোহারাও দেবেন। শর্ত একটাই, তার পরিবর্তে  অনুজাকে তাঁর শয্যাসঙ্গী হতে হবে। কারণ, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী। তাই তিনি এই সুখ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত। টাকা, খ্যাতি, বিষয়-আশয় তাঁর কাছে কোনো মানে রাখে না। অনুজার প্রথমে লোকটাকে ঘৃণ্য, সুযোগসন্ধানী মনে হয়েছিল। নিজেকে বড়ো অসহায় মনে হয়েছিল। ঘেন্নায় পেট গুলিয়ে বমি এসেছিল তার। কিন্তু অনেক ভাবার পর অনুজা বুঝতে পারে, আসল অসহায় তো ওই লোকটা! বরং, সুযোগ তো এখন তারই। সে রাজি হয়ে যায় লোকটার শর্তে। আজ পর্যন্ত লোকটা অক্ষরে-অক্ষরে তার শর্ত মেনে চলেছে। তাই, অনুজাকেও এক্ষেত্রে সততা দেখাতেই হবে। তাই শহরের এক অনামী লজ-এ যখন অনুজা ওই উকিলবাবুর সঙ্গে শর্তপালনে ব্যস্ত ছিল, তেলচিটে বিছানার পাশের লকারের উপর তার বোতাম-টেপা সস্তা মোবাইল ফোনটা কেঁপে উঠেছিল। বুকের উপর ময়লা বেডশিটটা টেনে নিয়ে ফোনটা কানে দিয়ে বলেছিল—"হ্যালো?" 
ওদিক থেকে জবাব এসেছিল—"আমি অনীক।" 
অনুজা কয়েক সেকেন্ড ভেবেছিল, কী বলবে। অনীক কি কোনোদিনও বুঝবে তার এই শর্তের ব্যাপারটা? অনীক ভদ্রসমাজের ছেলে। সেই সমাজেরও একটা শর্ত আছে। সেখানে প্রেমিকাকে বা বাড়ির বউকে হতে হয় অবস্থাপন্ন, সচ্ছল পরিবারের, যার শরীরে আগে থেকে কোনো পুরুষের ছোঁয়া থাকবে না, যে শুধু একমাত্র তার ওই নির্দিষ্ট প্রেমিক বা স্বামীর একার সম্পত্তি হয়েই পৃথিবীতে আসবে। নাঃ, অনুজার সাথে অনীকের শর্তগুলো খাপ খায় না। তাই সে ফোনটা কেটে সুইচ অফ করে দিয়েছিল।

                    ★ ★ ★ ★

একটা বাস এসে দাঁড়ালো অনুজার সামনে। এই বাসটাতেই সে বাড়ি ফেরে। তাড়াতাড়ি উঠে জানালার পাশে একটা সিটও পেয়ে গেলো অনুজা। বেশ কিছুক্ষণ চলার পর শহর ছেড়ে যখন তাদের গ্রামের পথ ধরলো বাসটা, জানালা দিয়ে আসা ফুরফুরে বাতাসে একটু হালকা লাগলো অনুজার।  ব্যাগ থেকে হোমটাস্কের খাতাটা বের করে অনীকের কারেকশন করা পাতাটা খুললো সে। পাতাটার নিচের ডানদিকে লাল কালিতে অনীকের সই— অনীক রায়। তার নিচে তারিখ লেখা আছে। অনুজা একবার পরম স্নেহে আদর করে দিল তাতে। তার লালচে-গোলাপি ঠোঁটদুটো আলতো করে ছুঁইয়ে দিল সেই হস্তাক্ষরের উপর। দু'চোখ ভিজে এল অনুজার। কারণ সে জানে, সমাজের যা-ই শর্ত  থাকুক না কেন, অনীকের ভালোবাসায় কোনো শর্ত  ছিল না।
           


Comments