একেকটা দিন পেরিয়ে গেছে স্বপ্নের ঘোরে। কিন্তু স্বপ্নের চাদরগুলো বুনেই গেলাম। গায়ে চাপানো হলো না। কত সাধ করে বলতিস, "ইছামতীর ধারে রাত পর্যন্ত বসে-বসে জোয়ার আসা দেখবো। ঠান্ডা জল যখন ফুলে-ফুলে উঠে আসবে, পা ছুঁয়ে যাবে, আমি ভয়ে কুঁকড়ে উঠে তোর হাতটা ধরবে শক্ত করে; আর তুই মনে-মনে ধন্যবাদ দিয়ে নদীকে বলবি, ছোঁয়াটুকু পাবার জন্য কোনো অনুমতিই লাগলো না। কিংবা আমার ভিজে যাওয়া শাড়ির পাড় পায়ে-পায়ে জড়াবে, আমি হোঁচট খাবার ভয়ে আবার সেই তোর দিকেই হাত বাড়িয়ে দেবো। জলের উপরে চাঁদনি-আকাশের রুপোলি ছায়া ছলছল করবে।"
ইছামতী নদীটা তোকে বরাবরই টানতো, সেটা জানতাম। আমার পছন্দ ছিল জঙ্গলের সরু অজানা পথ...যেখানে তোর সঙ্গে হারিয়ে যেতে বারবার ইচ্ছা করতো। কত ভেবেছিলাম জানিস, পালাবে তোর হাত ধরে। টিলার উপরে থাকবে ছোট্টো একটা হোগলাপাতায় ছাওয়া ঘর।তার নিচে সাজাবো আমাদের সংসার। তুই তো কোনোদিন নিয়েই গেলি না ওই জঙ্গলের রাস্তাটাতে। শুধু বলতিস, সাপ আছে। আমাকে যদি কাটে, তাহলে তুই ঝাঁপ দিবি ইছামতীর বুকে।
ভাবতে-ভাবতে একদিন আমরা বড়ো হয়ে গেলাম। তুই চাকরি নিয়ে চলে গেলি সমুদ্দুরের ওপারে। চিঠি দিয়েছিলি। কিন্তু সে-চিঠি হাতে পড়ে গেল বাবার। পরের মাসেই আমার বিয়ের ঠিক করে, আমাকে বিয়ে দিয়ে দিল। আর নিজেরাও সাতপুরুষের ভিটে ছেড়ে চলে এল কলকাতায়। আমার তো এখন নাতিপুতি নিয়ে ভরা সংসার...হারিয়ে গেল স্বপ্নের চাদর। তুই কেমন আছিস, আজ বড়ো জানতে চায় মন।
আচ্ছা গঙ্গার সঙ্গে কি ইছামতীর কোনো যোগ আছে? এ-চিঠি আমি ভাসিয়ে দিলাম তোর নামে গঙ্গায়। যদি পাস, তাহলে ভুলের বোঝাটা কমিয়ে আমাকে পারবি তো ক্ষমা করতে?
Comments
Post a Comment